কেউ কথা বললে বারবার বলতে হয়, টিভির শব্দ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রাখতে হয়, কিংবা ফোনে কথা বলার সময় ঠিকমতো শুনতে সমস্যা হয়—এগুলো কানে কম শোনার সাধারণ লক্ষণ হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। আবার কানের ময়লা জমা, কানের ইনফেকশন, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকা বা অন্যান্য শারীরিক কারণেও শ্রবণশক্তি কমতে পারে।
কানে কম শোনার কারণে দৈনন্দিন যোগাযোগ, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক জীবনেও অনেক সময় সমস্যা তৈরি হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শ্রবণশক্তি কমে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে হিয়ারিং এইড মেশিন ব্যবহার করে আশপাশের শব্দ ও মানুষের কথা আরও পরিষ্কারভাবে শোনা সম্ভব।
হিয়ারিং এইড মেশিন কী?
হিয়ারিং এইড হলো একটি ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা আশপাশের শব্দ গ্রহণ করে সেগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়িয়ে কানে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এটি বিশেষ করে যাদের শ্রবণশক্তি কমে গেছে, তাদের কথা বলা ও আশপাশের শব্দ শুনতে সহায়তা করতে পারে।
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের হিয়ারিং এইড পাওয়া যায়। কিছু মডেল কানের পেছনে পরা হয়, আবার কিছু ছোট মডেল কানের ভেতরে বা কানের মুখের কাছে ব্যবহার করা যায়।
কানে কম শুনলে হিয়ারিং এইড কীভাবে সাহায্য করে?
হিয়ারিং এইডের মধ্যে থাকা মাইক্রোফোন আশপাশের শব্দ গ্রহণ করে। এরপর ডিভাইসটি সেই শব্দকে প্রসেস করে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়িয়ে দেয় এবং স্পিকারের মাধ্যমে কানে পৌঁছে দেয়।
এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী—
- মানুষের কথা তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার শুনতে পারেন
- টিভি বা মোবাইলের শব্দ বুঝতে সুবিধা হয়
- দৈনন্দিন কথোপকথনে অংশ নিতে পারেন
- আশপাশের বিভিন্ন শব্দ সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারেন
- সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারেন
তবে মনে রাখতে হবে, হিয়ারিং এইড শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে দেয় না। এটি মূলত কম শোনার ক্ষেত্রে শব্দকে আরও সহজে শোনার উপযোগী করে তুলতে সাহায্য করে।

কানে কম শোনার সাধারণ কারণ কী?
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন—
১. বয়সজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাস
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কানের ভেতরের শ্রবণ-সম্পর্কিত কোষের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
২. অতিরিক্ত শব্দ
দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে থাকা, যেমন মেশিনের শব্দ, উচ্চ ভলিউমে হেডফোন ব্যবহার বা জোরে মিউজিক শোনা শ্রবণশক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. কানে ময়লা জমা
কানের ভেতরে অতিরিক্ত ময়লা জমে গেলে সাময়িকভাবে কম শোনার সমস্যা হতে পারে।
৪. কানের ইনফেকশন
কানের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণেও সাময়িক বা দীর্ঘস্থায়ী শ্রবণ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. অন্যান্য শারীরিক কারণ
কিছু ওষুধ, আঘাত বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণেও শ্রবণশক্তি প্রভাবিত হতে পারে।
তাই কানে কম শোনা শুরু হলে সরাসরি হিয়ারিং এইড কেনার আগে সমস্যার কারণ জানা গুরুত্বপূর্ণ।
হিয়ারিং এইড ব্যবহারের আগে কী করবেন?
যদি নিয়মিত কানে কম শোনেন, তাহলে একজন ENT চিকিৎসক বা অডিওলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে শ্রবণ পরীক্ষা করানো ভালো। এতে আপনার শ্রবণশক্তি কতটা কমেছে এবং কোন ধরনের হিয়ারিং এইড আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে তা নির্ধারণে সাহায্য করবে।
কারণ সবার জন্য একই ধরনের বা একই মাত্রার হিয়ারিং এইড উপযুক্ত নয়।
হিয়ারিং এইডের দাম কত?
বাংলাদেশে হিয়ারিং এইডের দাম মডেল, ধরন, শব্দ প্রসেসিং প্রযুক্তি, ব্যাটারি বা রিচার্জেবল সুবিধা, ডিজাইন এবং ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর করে।
সাধারণত বাজারে বাজেট-ফ্রেন্ডলি বেসিক হিয়ারিং এইড থেকে শুরু করে উন্নত প্রযুক্তির ডিজিটাল হিয়ারিং এইড পর্যন্ত বিভিন্ন দামের মডেল পাওয়া যায়। তাই নির্দিষ্ট একটি দাম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।
তবে বর্তমানে আমাদের হরেকমাল বিডিতে এর অফার প্রাইজ মাত্র ৪০০ টাকা

হিয়ারিং এইড ব্যবহারের কিছু টিপস
হিয়ারিং এইড দীর্ঘদিন ভালো রাখতে—
- ব্যবহারের পর পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন
- অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন
- প্রয়োজন না হলে নিরাপদ স্থানে রাখুন
- নিয়মিত চার্জ দিন বা ব্যাটারি পরিবর্তন করুন
- কানের ভেতরে অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
- ডিভাইস পরিষ্কার করার সময় প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন
কানে কম শুনলে কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি হঠাৎ করে এক বা দুই কানে শুনতে কমে যায়, কানে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, মাথা ঘোরে, কানে অস্বাভাবিক শব্দ হয় বা কান থেকে তরল/রক্ত বের হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে গেলে শুধু হিয়ারিং এইড ব্যবহার করে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
শেষ কথা
কানে কম শোনার সমস্যা দৈনন্দিন জীবনে বেশ অসুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে সমস্যার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা বা উপযুক্ত শ্রবণ সহায়ক ডিভাইস ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রেই দৈনন্দিন যোগাযোগ সহজ করা সম্ভব।

